কংগ্রেসের আজকের বৈঠকে নতুন সভাপতি নির্বাচন!

প্রকাশিত: ১০:২০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০২০

কংগ্রেসের আজকের বৈঠকে নতুন সভাপতি নির্বাচন!

ভারতে বিগত দুই নির্বাচনে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির কাছে ধরাশায়ী হয় দেশটির ঐতিহ্যবাহী দল কংগ্রেস। এ জন্য দলের নীতির অস্পষ্টতা এবং নেতৃত্বের সংকটকে দায়ী করছেন অনেকে। তাদের মতে, তরুণ রাহুল রাজনৈতিক ‘অনভিজ্ঞতার’ কারণে বিজেপি-বিরোধী দলগুলোকে একই প্ল্যাটফর্মে আনতে পারেননি।

রাজ্যসভার নির্বাচনে আশানুরূপ ফল করতে না পারা এবং দলের অনেক বিধায়কের ডিগবাজি দিয়ে বিজেপিতে যোগদানের ফলে কংগ্রেসে বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী দলটির ভবিষ্যৎ নিয়েও নেতাকর্মীরা অন্ধকারে।

এই সময় জানায়, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে কংগ্রেসে অভ্যন্তরে আমূল সংস্কারের দাবি জানান দলের শীর্ষ ২৩ নেতা। এ নিয়ে তারা অন্তর্বর্তী সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে একটি চিঠিও লেখেন যা সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে গেলে তোলপাড় শুরু হয়।

জানা গেছে, ওই চিঠিতে কংগ্রেসের নানা সংকটময় পরিস্থিতি তুলে ধরার পাশাপাশি পূর্ণ সময়ের নেতৃত্বেরও দাবি জানানো হয়েছে। সেই চিঠির জবাব রবিবার দিয়েছেন সোনিয়া।

সূত্রের দাবি, দলের শীর্ষ নেতাদের চিঠির জবাবে সোনিয়া জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সভানেত্রী পদে তার এক বছরের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। এ বার তিনি সেই পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চান। দলের উচিত নয়া সভাপতি নির্বাচন করা।

আজকের (সোমবার) কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সোনিয়া ফের এই ইচ্ছের কথা তুলে ধরবেন বলে সূত্রের দাবি।

বিগত লোকসভা ভোটে হারের ধাক্কায় সভাপতি পদে রাহুল গান্ধীর ইস্তফা এবং তার বিকল্প বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতাদের ব্যর্থতা দেশের শতাব্দী প্রাচীন এই দলের শীর্ষ স্তরে এক শূন্যতা সৃষ্টি হয়। পরে সোনিয়া গান্ধীকে অন্তর্বর্তী সভানেত্রী করে আপাতত সেই শূন্যতা পূরণ করা হয়।

এরপর নতুন স্থায়ী নেতা খোঁজার ক্ষেত্রে বিশেষ তাগাদা দেখা যায়নি। কিন্তু দলে সংস্কার ও পূর্ণ সময়ের নেতৃত্বের দাবি জানিয়ে সোনিয়াকে লেখা ২০ জনের বেশি নেতার ‘পত্রবোমা’ রাতারাতি যেন কংগ্রেসের ঘরোয়া রাজনীতি উলটপালট করে দিয়েছে। যে কারণে সোমবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির জরুরি বৈঠক ডাকেন সোনিয়া। এই বৈঠকে পরবর্তী সভাপতি বেছে নেবেন কংগ্রেস নেতারা।

এদিকে, নতুন কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচনে দলের নেতারাও এই ইস্যুতে দ্বিধাবিভক্ত। একাংশ চাইছেন পূর্ণ সময়ের জন্য দলের সভানেত্রীর দায়িত্বে সোনিয়াই নিজের কাঁধে তুলে নিন। না হলে রাহুল গান্ধী বা নিদেনপক্ষে গান্ধী পরিবারের কেউ কংগ্রেসের সভাপতির চেয়ারে বসুন।

কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীরা এবং অধিকাংশ প্রদেশ সভাপতি গান্ধী পরিবারের ওপরে আস্থা প্রকাশ করেছেন। এই তালিকায় আছেন- পাঞ্জাব, ছত্তিশগড় এবং রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী, দলের লোকসভার নেতা অধীর চৌধুরী, প্রাক্তন মন্ত্রী অশ্বিনী কুমার, সালমান খুরশিদ এবং কেকে তিওয়ারির মতো মুখ।

অন্য অংশ ‘পরিবারতন্ত্রে’র অবসান ঘটিয়ে গান্ধী পরিবারের বাইরের কোনো নেতাকে কংগ্রেসের কমান্ড তুলে দেওয়ার পক্ষে। সংস্কারপন্থী নেতাদের মধ্যে গুলাম নবি আজাদ, আনন্দ শর্মা, কপিল সিব্বাল, মুকুল ওয়াসনিক, মণীশ তিওয়ারি, শশী থারুর এবং হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপিন্দর সিং হুডার নাম আছে। অনেকে আবার তরুণ নেতা মুকুল ওয়াসনিককে পরবর্তী কংগ্রেস সভাপতি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রাখছেন।