সিনেমা-রসিক ধর্মযাজক গাস্তঁ রোবের্জ প্রয়াত

প্রকাশিত: ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০২০

সিনেমা-রসিক ধর্মযাজক গাস্তঁ রোবের্জ প্রয়াত

ফাদার গাস্তঁ রোবের্জ আর নেই। এ বিদগ্ধ চলচ্চিত্রবিদ, তাত্ত্বিক তথা জেসুইট ধর্মযাজক বুধবার কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

কলকাতার জেসুইট দপ্তর থেকে জানানো হয়, গাস্তঁ রোবের্জ বুধবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটের দিকে মারা যান। এর আগে তিনি নিয়মিত প্রার্থনা ও নাশতায় যোগ দেন। তার প্রয়াণ শান্তিপূর্ণই হয়েছে।

১৯৬১ সালে কলকাতায় এসে থেকেই যান সত্যজিৎ রায়ের অপু ট্রিলজি-র মুগ্ধ রোবের্জ। ভারতীয় চলচ্চিত্র চর্চার অন্যতম পথিকৃৎ কেন্দ্র চিত্রবাণী তার হাত ধরেই গড়ে ওঠে। দীপক মজুমদার, উৎপল কুমার বসু, গৌতম চট্টোপাধ্যায় থেকে হিরণ মিত্র, সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের মতো বিদগ্ধ জনেরা তার সান্নিধ্যে এসেছিলেন।

বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন গাস্তঁ রোবের্জ। শুক্রবার জোকার কাছে ধ্যান আশ্রমে কানাডার মন্ট্রিয়েলে জন্ম নেওয়া এই ব্যক্তিত্বের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

বলা হয়ে থাকে, কলকাতার ফিল্ম সোসাইটির চলচ্চিত্র-চর্চার একটা সংহত বিন্যস্ত চেহারা গড়ে উঠেছিল তারই হাত ধরে। কিংবা শুধু সিনেমা-রসিক নন, কলকাতায় শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রের আগ্রহীদের জন্যও হয়ে উঠেছিলেন বিশ্ববীক্ষার এক খোলা জানলা।

কলকাতায় এসে তিনি বাংলা ভাষা শিখেন। এ ভাষাতেই চলচ্চিত্র চর্চা করেন।

ফাদার গাস্তঁ রোবের্জের জন্ম ১৯৩৫ সালের ২৭ মে। তিনি বিএ ডিগ্রি নেন ১৯৬৫ সালে। যোগ দেন সোসাইটি অফ জেসাস-এ (জেসুইট ফাদারস)। তার অনুরোধেই তাকে ভারতে পাঠানো হয় ১৯৬১ সালে। তখন থেকেই প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে তিনি কলকাতায় বাস করছেন। ১৯৬৯-৭০ সালে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে থিয়েটার আর্টসে (ফিল্ম) এমএ ডিগ্রি নেন। ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের সহযোগিতায় কলকাতায় চিত্রবাণী নামে একটি কমিউনিকেশন সেন্টার স্থাপন করেন। ১৯৮৬ সালে কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে এডুকেশনাল মিডিয়া রিসার্চ সেন্টার চালু করেন। তিনি ফিল্ম বিষয়ে বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। বইগুলোর মধ্যে চিত্রবাণী, সিনেমার কথা, নতুন সিনেমার সন্ধানে, সংযোগ সিনেমা উন্নয়ন, আইজেনস্টাইনস আইভান দি টেরিবল : অ্যান এনালাইসিস, অ্যানাদার সিনেমা ফর অ্যানাদার সোসাইটি, দি সাবজেক্ট অফ সিনেমা, সাইবারবাণী ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

সেন্ট জেভিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও ফাদার রোবের্জ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট, রূপকলা কেন্দ্র বা আমদাবাদের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডিজাইনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্র পণ্ডিতের প্রয়াণে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের অধ্যক্ষ ডোমিনিক স্যাভিয়োও শোকপ্রকাশ করেছেন।