চ্যাম্পিয়নদের উড়িয়ে শুভ সূচনা চেন্নাইর

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

চ্যাম্পিয়নদের উড়িয়ে শুভ সূচনা চেন্নাইর

করোনাকালীন নানা শঙ্কা কাটিয়ে অবশেষে মাঠে গড়িয়েছে আইপিএলের ত্রয়োদশ আসর। মরুভূমির দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে উদ্বোধনী দিনে মুখোমুখি হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও চেন্নাই সুপার কিংস। চ্যাম্পিয়ন রোহিত শর্মাদের হারিয়ে জয়ের শুভ সূচনা করেছে মাহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে মুম্বাইকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে চেন্নাই। উদ্বোধনী ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন চেন্নাই সুপার কিংসের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। আর প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ১৬২ রান তুলতে সক্ষম হয় মুম্বাই। জবাবে আম্বাতি রাইডু ও ফাপ ডু প্লেসিসের ব্যাটে ভর করে ৫ উইকেট ও ৪ বল হাতে রেখে জয় তুলে নেয় চেন্নাই।

১৬২ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি চেন্নাইর। ৫ রানে প্রথম ও ৬ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারিয়ে বসে তারা। ট্রেন্ট বোল্ট প্রথম ওভারের শেষ বলে তারকা অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসনকে (৪) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন। দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে মুরালি বিজয়কে (১) এলবিডব্লিউ করে ফেরান জেমস প্যাটিনসন।

সেখান থেকে দলের হাল ধরেন ফাপ ডু প্লেসিস ও আম্বাতি রাইডু। তারা দুজন ১১৫ রানের জুটি গড়ে কেবল দলের বিপর্যয়ই সামাল দেননি, দলকে এনে দেন জয়ের শক্ত ভিত। ১২১ রানের মাথায় ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা রাইডুকে কট অ্যান্ড বোল্ট করে দীপক চাহার স্বস্তি ফেরান মুম্বাই শিবিরে। ৪৮ বলে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৭১ রান করে যান রাইডু।

কিন্তু ডু প্লেসিসকে আর ফেরাতে পারেনি মুম্বাই। তাতে জয় পায় চেন্নাই। ডু প্লেসিস ৪৪ বল খেলে ৬টি চারে ৫৮ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। স্যাম কুরান ৬ বলে ১৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে চেন্নাইর জয়কে সহজ করে দেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দীপক চাহারকে চার মেরে আসরের সূচনা ঘটান রোহিত। যদিও মুম্বাই দলনেতা উইকেটে বেশিক্ষণ থিতু থাকতে পারেননি। ১০ বলে ১২ রান করে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনিই ফেরেন সাজঘরে। রোহিত যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন, ছন্দে ছিলেন আরেক ওপেনার কুইন্টন ডি কক। তবে রোহিতের বিদায়ের পর তিনিও ধরেন প্যাভিলিয়নের পথ। দলীয় ৪৮ রানে আউট হওয়ার আগে ৩৩ রান করেন ২০ বলের মোকাবেলায়, ৫টি চার হাঁকিয়ে।

সূর্যকুমার যাদব (১৬ বলে ১৭), হার্দিক পান্ডিয়া (১০ বলে ১৪) ও কাইরন পোলার্ড (১৪ বলে ১৮) ইনিংস বড় করার সুযোগ পাননি। বিপর্যয় প্রতিরোধের লড়াই চালিয়ে গেছেন সৌরভ তিওয়ারি। ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩১ বলে ৪২ রান করে তাকে বিদায় নিতে হয় ফ্যাফ ডু প্লেসিসের ক্যাচে পরিণত হয়ে। সৌরভের মত হার্দিককেও সাজঘরে ফিরিয়েছে ডু প্লেসিসের চোখ ধাঁধানো ক্যাচ, দুবারই বোলারের ভূমিকায় ছিলেন জাদেজা।

শেষদিকে রানের গতি বাড়াতে পারেননি কেউই। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬২ রান। বল হাতে চেন্নাইর লুঙ্গি এনগিদি ৩টি উইকেট নেন। ২টি করে উইকেট নেন দীপক চাহার ও রবীন্দ্র জাদেজা।

বল হাতে ১ উইকেট ও ব্যাট হাতে ১৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন স্যাম কুরান।